top of page

'প্রতিদিন ইস্কুলে পৌঁছেই অম্বুদ রাস্তায় দাঁড়িয়ে দূরের দিকে তাকিয়ে থাকে একটিই প্রার্থনা নিয়ে, সেদিন যেন প্রত্যেকটি এগিয়ে আসা সাইকেলের উপর কালো মাথা দেখা যায়। এইভাবে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অনেক দূরে সাইকেলের উপর সাদা মাথাটি নজরে আসা মাত্র চোখে অন্ধকার দ্যাখে সে। একবুক বিষাদ নিয়ে তাড়াতাড়ি ইস্কুল ঘরে ঢুকে নিজের চাটাই-এর ওপর বসে পড়ে।

চাটাই-এ বসে অম্বুদ ভাবতে থাকে দুর্গাপুজোর যাত্রাপালার ছবি। মাথায় লম্বা কালো চুল, পরনে শাড়ি এবং গয়না— দ্রৌপদী কিংবা সীতার করুণ বিলাপে আশ্চর্যজনকভাবে অবিকল বাজতে থাকে বড় পনশয়ের ভয়াল কণ্ঠস্বর। বর্ণপরিচয় দ্বিতীয় ভাগের বানানসমূহ অম্বুদের মাথা থেকে উধাও হয়ে যেতে থাকে। হাসিমুখের ছোট পনশয় তখন তাঁর ভরাট সুরেলা স্বরে নামতা পাঠ করছেন; সকলের সঙ্গে অম্বুদও গলা মেলাচ্ছে আর ভাবছে টিফিনটা কখন হবে। বড় পনশয় চিৎকার করে বলবেন, টি-ফি-ন। তাঁর ভয়াল আওয়াজটিও তখন মিষ্টি শোনাবে। মুড়ির পুঁটলি নিয়ে সকলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটতে ছুটতে পুকুরপাড়ে চলে যাবে অম্বুদ ।

বর্ষাকাল না হলে পুকুরের জলটি পরিষ্কার, টলটলে। ঘাটের কাছে বেশ কিছুটা জায়গা বাদে সমস্ত পুকুরটাই শালুক পাতা আর ফুলে ভরতি হয়ে থাকে। রাস্তার দিকের পাড়টি পায়ে পায়ে ন্যাড়া হয়ে গেলেও বাকি তিন দিকের পাড়ে বুনো সজীব ঘাস লকলক করে হাওয়ায় দোলে।

অম্বুদ পুকুরে নেমেই মুড়ির পুটলি জলে ডুবোবে। শুকনো মুড়িতে জল ঢুকলেই হাওয়া বেরিয়ে আসে আর জলে বুজকুড়ি কাটে। সঙ্গে সঙ্গে নাকে ঢোকে ভেজা ম