“খাওয়া হয়েছে তুতুলরানি?”
তুতুল ঠোঁট ওল্টাল, “ক… খ… ন! ঠাম্মা আজ ডালে যা ঝাল দিয়েছে না... উহ্! এখনও জিভ জ্বলছে। আচ্ছা, তুমি খেতে এলে না তো?”
“আমার তো আজ উপোস। আমি খাব সেই রাতে… পুজো হওয়ার পরে।”
জিভ কাটল তুতুল, “ইস্! তাই তো। ভুলেই গেছিলাম। তোমার কষ্ট হবে না কাকু?”
শম্ভু হাসল, “না। ঠাকুরের কাজে কষ্ট হয় না তুতুলরানি।”
কিছুক্ষণ চিন্তা করল তুতুল। তারপর বলল, “আচ্ছা কাকু, তুমি না খেয়ে থাকো, তাই কি তোমার ভর হয়?”
“উমমম... তা বলতে পারো।”
“আমি যদি না খেয়ে থাকি, তবে কি আমারও ভর হবে?”
শম্ভুর বুকের ভিতর দিয়ে যেন ঝমঝম করে রেলগাড়ি চলে গেল। তার সারি সারি চাকার চাপে পিষে গেল সব, অনেককিছু ছিঁড়েখুঁড়ে গেল, দলা দলা মাংস আলাদা হয়ে গেল হাড়ের থেকে, ছিটকে উঠল কালচে রক্ত। তার মধ্যেই নিষ্ঠুর এক নারীকণ্ঠের হাসি বাজতে লাগল গুমগুম করে। ওই হাসি কি তারাময়ীর? নাকি স্বয়ং দেবীর? বুঝতে পারল না শম্ভু।
“তুমি অনেক ছোটো তুতুলরানি। ছোটোদের ভর হয় না।”
“তা হলে যদি আমি বড়ো হই, তবে কি ভর হবে?”
“তোমার ভর-হওয়া ভালো লাগে বুঝি?”
তুতুল দু’পাশে মাথা নাড়ল, “উঁহু। একটুও না। আমার তো ভর হওয়ায় ভয় লাগে।”
“তা হলে তুমি খুব করে লেখাপড়া শেখো তুতুলরানি। যারা অনেক লেখাপড়া জানে, তাদের কখনও ভর হয় না।”
কথাটা বোধহয় তুতুলের মনে ধরল। ও ঠোঁট টিপে, চুপচাপ থাকল কিছুক্ষণ। তারপর হঠাৎ ফিসফিস করে বলল, “মা বলে, যাদের ভর হয়, তারা নাকি তাড়াতাড়ি মরে যায়। তারাময়ীও নাকি মরে গেছিল! তুমিও পড়াশোনা করো কাকু। তা হলে তোমার ভর ছাড়িয়ে যাবে, আর তুমি মরবে না।”
top of page
SKU: 000299
₹280.00 Regular Price
₹238.00Sale Price
Related Products
bottom of page


















