প্রেমিক
ভয়ার্ত নিঃসঙ্গতার ভিতরে এক আলোকরেখার মতো ভালোবাসা
এটা হিন্দু-মুসলমানের প্রেমগাথাও হতে পারত। হতে পারত শুধু প্রেমের গল্প—অসীম, অবাধ, একান্ত। কিন্তু প্রেমিক শুধু প্রেম নয়, এ এক সময়ের দলিল। যখন পৃথিবীর প্রতিটি কোণ নিস্তব্ধ, প্রতিটি হৃদয় দূরত্বে আটকে, প্রতিটি মানুষ নিজস্ব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত—ঠিক তখন, কিছু মানুষ দাঁড়িয়েছিল অন্যের পাশে।
নাসিম, এক রেড ভলান্টিয়ার। করোনা যখন দুনিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করেছে—বাঁচা আর না বাঁচার মাঝে, তখন নাসিম আর তার সহযোদ্ধারা বেরিয়ে পড়ে অজস্র অসহায়ের সহায় হয়ে। অক্সিজেনের খোঁজ, হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া, মৃতদেহের সৎকার, জীবনের ভার নিয়ে নেমে পড়া সেই মানুষগুলোর একজন নাসিম।
রাত্রি—নাসিমের হৃদয়ের আলোকছায়া। কিন্তু এই প্রেম কোনও পলিয়ানুচ্চার মুগ্ধতা নয়। এই প্রেম তৈরি হয় শববাহী রাতের নিঃশব্দতা থেকে, জীবনের অতন্দ্র প্রহরায় দাঁড়িয়ে।
প্রেমিক সেই সময়ের গল্প, যেখানে ভয় নিঃশ্বাসের থেকেও ঘন, কিন্তু তবু মানুষ ভালোবেসেছে। এই উপন্যাস শুধু প্রেমের নয়, এ হল সহমর্মিতা, আত্মত্যাগ, সংবেদনশীলতার শুদ্ধতম রূপের কাহিনি। একান্ত ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে সামষ্টিক; প্রেম হয়ে ওঠে প্রতিরোধ।
এখানে ধর্ম গৌণ, পরিচয় গৌণ, কেবল মানুষই মুখ্য। এই ‘প্রেমিক’ এক নিখাদ মানবিকতার চরিত্র, যে চেনা পৃথিবীর বিপরীতে দাঁড়িয়ে মানুষের জন্য বাঁচে।
এই উপন্যাসের শেষে পাঠকের মনে গেঁথে থাকবে একটাই প্রশ্ন—
যে সময়ে সবাই দূরে সরে গিয়েছিল, সেই সময় কারা সত্যিকারের প্রেমিক হয়ে উঠেছিল?
প্রেমিক সেই নিঃসঙ্গ, অন্ধকার সময়ের একটি উজ্জ্বল স্বাক্ষর। প্রেমের, সাহসের, মানুষের।

















