না, ভেবেচিন্তে দেখলে শিমুলগাছা খুব একটা সুবিধের জায়গা না। ওপর ওপর আর পাঁচটা ক্ষয়াটে মফস্বলের মত মনে হলেও এ কথা আমি হলফ করে বলতে পারি যে জায়গা হিসেবে শিমুলগাছা মোটে ভালো না।
হ্যাঁ, তিনদিক ঘেরা একটা চওড়া নদী আছে, নদীর চড়ায় চড়ুইভাতি আছে, লাল ইটের দেওয়াল-সবুজ আইভি লতা আর পগেয়া চিমনিওয়ালা ভারী চমৎকার দেখতে সাহেবী বাংলো আছে, সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমা হলের বাইরে এখনও লম্বা লাইন আছে, পাশে এগরোলটা-চাউমিনটার দোকানও আছে।
চ্যাঙ্কা ছেলেপুলেরা ইস্কুল যায়, মাঝেমধ্যে ইস্কুল কেটে দক্ষিণের মাঠে ফুটবল পেটায়, কোচিং শেষে সাঁইসাঁই করে সাইকেল ফাটায়, কেউ কেউ আবার বিকেলবেলা লম্বা বিনুনি-গোলাপি গালেদের পিছনে সাইকেল হাঁটায়।
লোকজনের জোড়াতালি দেওয়া সংসার আছে, রবিবারের মাংসভাত আছে, এমনকী পাঁচরকম পুজো টুজোও বেশ হইহই করেই আছে।
তবুও আমি বলব মশাই শিমুলগাছা জায়গা মোটে ভালো না। সূর্য ডোবার পর দক্ষিণের জঙ্গলে এমন কিছু দেখা ও শোনা যায়, যা দেখতে বা শুনতে না পাওয়াই ভালো।
পরিত্যক্ত রেল কলোনি আর ভুলে যাওয়া সাহেবপাড়ায় ওঁৎ পাতে অন্ধকার। শহরের নীচে প্রকান্ড নর্দমার গোলকধাঁধায় কারা যেন শিকার খোঁজে...
শিমুলগাছা শুধু তার রহস্যদের আড়ালে আবডালে খাঁজেভাঁজে লুকিয়েই রাখে না, কখন প্রকাশ্যে এনে সবার দাঁত কপাটি লাগিয়ে দিতে হয় তা ভালো করেই জানে।
এখানে চলতে গেলে তেড়ে হিসেব নিকেশ কষে নিয়ে পা ফেলাই ভালো।
পিকু, বৃষ্টি, তেন্ডূয়া আর ওদের বন্ধুরাও তো তাইই করে। তবু মাঝেমধ্যে হিসেব ঘেঁটে যায়, দক্ষিণের জঙ্গল থেকে দমকা বাতাস এসে এলোমেলো করে দেয় সব কিছু।
শিমুলগাছা যে কী তেঁড়েটে মার্কা জায়গা, তা যাঁরা আমার "সূর্য ডোবার পর" আর "বিনু" সিরিজ পড়েছেন তাঁরা তো হাড়ে হাড়েই জানেন।
আর যাঁরা জানেন না তাঁদের তাই আবারও বলি যে মশাই, আর যেখানেই যান না কেন, শিমুলগাছায় না যাওয়াই ভালো।
top of page
SKU: 000411
₹399.00 Regular Price
₹319.00Sale Price
Related Products
bottom of page

















