top of page

Baby food || বেবি ফুড || Amyt Dutta

“কেমন আছেন?”

“আপাতত ভালোই। তবে দু-একজন অফিসার মাঝে মাঝে বড় জ্বালাচ্ছে। সে যাকগে…”

“আমার নাম রিচার্ড পোর্টম্যান। আমি আপনার নতুন থেরাপিস্ট।”

“কেন? আগে যারা ছিল, তাদের দম ফুরিয়ে গেছে?”

“হেঁ হেঁ… ইউ আর আ ফানি গাই। আপনার নামটা একটু বলবেন?”

“ওরা বলেনি বুঝি?”

“বলেছে, তবু আপনার মুখে শুনতে চাই।”

“ন্যাথানিয়েল বেঞ্জামিন লিভাই বার-জোনাহ।”

“আপনি ইহুদি?”

“হ্যাঁ।”

“কেন?”

“আমি মনে করি তাই…”

রিচার্ড এক মুহূর্ত কী যেন ভাবলেন। সেলের উজ্জ্বল সাদা আলোটা ন্যাথানিয়েলের মুখের ওপর পড়ছে—গোলগাল মুখে যেন শান দিচ্ছে। লোকটার মধ্যে একটা অদ্ভুত কঠোরতা আছে, কিন্তু চোখদুটো কী ভীষণ শান্ত! নীল মণিদুটো নীল সাগরের অতলে যেন হারিয়ে যাচ্ছে। রিচার্ডও কি কোথাও হারিয়ে যাচ্ছেন? তিনি একটু কেশে আবার প্রশ্ন করা শুরু করলেন।

“১৯৭৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কী হয়েছিল, আপনার কিছু মনে আছে?”

“আছে।”

“আপনি ছেলেদুটোকে চিনতেন?”

“না!”

“তাহলে?”

“আমি ওদের লিফট দিতে চেয়েছিলাম।”

“জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে?”

“ওটা আমার ভুল ছিল। আমার মাথা কাজ করছিল না।” ন্যাথানিয়েল মাথা নিচু করে দুহাতে মুখ ঢেকে নিল।

“শুরু থেকে বলুন।”

“তখন গাড়ি নিয়ে প্রায়ই রাতে বেরিয়ে পড়তাম। ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালাতে ভালো লাগত। সেদিন কখন বেরিয়েছিলাম, ঠিক মনে নেই… বারো বছর আগের কথা। শ্রুসবেরির বড় রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম, দুটো ছেলে হোয়াইট সিটি সিনেমা হল থেকে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে আসছে—দেখে মনে হল, খুব তাড়ায় আছে। জিজ্ঞাসা করলাম, কোথায় যাবে? বাড়ি পৌঁছে দেবো কিনা…”

“ইয়ে, মিস্টার বার-জোনাহ, আপনার মনে হয় কোথাও একটু ভুল হচ্ছে। আসলে বারো বছর আগের কথা তো, ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনি এতটাও পরোপকারী হয়ে কিছু বলেননি। আপনি ওদের হুমকি দিয়েছিলেন, এফবিআই এজেন্ট সেজে গাড়িতে উঠতে বাধ্য করেছিলেন। আচ্ছা, পুলিশের পোশাকটা আপনি কোথা থেকে জোগাড় করেছিলেন?”

“ওটা আমার এক মামা আমায় দিয়েছিল।” চিবিয়ে চিবিয়ে কথাগুলো বলল ন্যাথানিয়েল। তার চোখে-মুখে পরিবর্তনের ভাব স্পষ্ট।

“মামার নাম বলতে পারবেন?”

“ভুলে গেছি।”

“স্বাভাবিক। আচ্ছা, আপনি শুনছি নাকি ছাড়া পাওয়ার জন্য বড় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন? ঘন ঘন প্যারোলের নোটিশ পাঠাচ্ছেন?”

“সেটা কি আমার অধিকার নয়?”

“অবশ্যই… কিন্তু আপনি একটা কথা বলুন, মিস্টার বার-জোনাহ, আপনি তো আর এই প্রথমবার ধরা পড়েননি? আপনার সমস্ত কেস-ফাইল আমি ঘেঁটে দেখেছি…”

“তবু আপনাকে আমার নাম জিজ্ঞাসা করতে হল।” রিচার্ডকে একপ্রকার থামিয়েই কথাটা বলল ন্যাথানিয়েল।

“তার অবশ্যই কারণ ছিল, এবং আপনি সেটা ভালোভাবেই জানেন। যেটা বলছিলাম, আপনি কি মনে করেন, আপনি এই সমাজের জন্য নিরাপদ? বাচ্চারা আপনার আশেপাশে সুরক্ষিত তো?”

ন্যাথানিয়েলের চোখে-মুখে ক্ষণিকের জন্য প্রবল রাগ ও বিকৃতি ফুটে উঠে আবার মিলিয়ে গেল।

“আমি… আমি বাচ্চাদের খুবই পছন্দ করি।” সামান্য কটা কথা বলতে গিয়ে যে এমন ঢোক গিলতে হয়, ন্যাথানিয়েল তা জানত না।

“আপনার পছন্দগুলো মোটেও স্বাভাবিক নয়, মিস্টার বার-জোনাহ। তবু যতদিন আপনি এই হাসপাতালে আছেন, চেষ্টা করব, যাতে আপনাকে মানসিকভাবে কিছুটা সুস্থ করা যায়। তবে সেটা নির্ভর করছে, আপনি নিজে সুস্থ হতে চান কি না।”

ন্যাথানিয়েল চুপ করে থাকে। তার মুখ দিয়ে কথা সরছে না দেখে রিচার্ড আবার বললেন,

“আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে পারি?”

“করুন।”

“আপনি যদি কালকে আবার মুক্তি পেয়ে যান, তাহলে কি আবার ওরকম কিছু করবেন? মানে, গাড়ি নিয়ে রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে পড়ে…”

“দিনের আলোতেও বেরোতে পারি…” রিচার্ড পোর্টম্যানের কথা শেষ হওয়ার আগেই কেউ যেন ন্যাথানিয়েলের চোয়াল ফাঁক করে কথাগুলো ওকে দিয়ে বলিয়ে ছাড়ল। ন্যাথানিয়েল হাঁপাচ্ছে, যেন কথাটা বলতে পেরে ও হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে।

“আপনার প্যারোলের ব্যাপারটা আপাতত তোলা থাক, মিস্টার বার-জোনাহ! এখনও কয়েক বছর আপনার এখানে থাকা দরকার।”

রিচার্ড চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। তার গলায় যেন হঠাৎ একপ্রকার কাঠিন্য ফুটে উঠেছে।

“আমার একটা উপকার করতে পারবেন, মিস্টার পোর্টম্যান?”

মাথা নিচু করেই জিজ্ঞাসা করল ন্যাথানিয়েল।

“বলুন।”

“আমায় একটা উইজি বোর্ড জোগাড় করে দিতে পারবেন?”

“কী?” নামটা চেনা চেনা ঠেকলেও কিছুতেই মনে করতে পারলেন না রিচার্ড।

“এক ধরনের বোর্ড গেম। ছোটবেলায় খুব খেলতাম। অ্যালফাবেট লেখা থাকে, সঙ্গে নম্বরও। ভূত-ভবিষ্যৎ সব বলে দেয়। পারবেন জোগাড় করে দিতে?”

ন্যাথানিয়েল এবার মুখ তুলেছে। ওর মুখে হাসি—কুটিল হাসি।

ন্যাথানিয়েল বার-জোনাহ-র আশ্চর্য জীবন কাহিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি 'বেবি ফুড' উপন্যাসে।


Baby food || বেবি ফুড || Amyt Dutta
₹349.00₹259.00
Buy Now

Comments


bottom of page