ইন্দুভূষণ মিত্র বেলঘরিয়ার ত্রাস না এক পথভ্রষ্ট নেতা।
.......এদিকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সব সমস্যা, তায় সুষ্ঠুভাবে সরকার চালানোয় নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব। মানুষ তাদের ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছিল, জনসমর্থনেও কিছুটা ভাটা পড়ছিল। অবস্থা সুবিধার নয় দেখে নেতৃত্ব এবার তাদের কাজে লাগানোর কথা ভাবলেন যারা ছেচল্লিশের দাঙ্গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে মানুষের মন জয় করেছিল। দাঙ্গা কমে যেতে এদের মাথারা তখন শাসক দলের ছত্রছায়ায় প্রতিপালিত হচ্ছিল। মূলত বড় বড় নেতৃত্বের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতেন এরা। এবার তাদের ওপরেই দায়িত্ব পড়ল বিভিন্ন জায়গার রবিনহুড টাইপ যুবকদের একত্রিত করা এবং দলের কাজে নিয়ে আসার জন্য। এই যুবকদের তথ্য ওপরতলার নেতাদের কাছেও ছিল। দাঙ্গার ত্রাতারা জানত যার ম্যান পাওয়ার আছে তার মানি পাওয়ারের পথও খোলা থাকবে। তাই আগে দরকার ম্যান পাওয়ার। অতএব এই হুলিগানদের দলে আনার কাজ শুরু হল। একদিকে টাকার নিশ্চিত জোগান, অন্যদিকে ক্ষমতার ছায়াময় হাত ধরে থাকা। দাঙ্গার প্রতিরোধ কমিটির অনেক মাথাই তখন চোখ বুঁজে এই জগতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। আর তারাই এই সব হুলিগানদের গুরু হয়ে উঠলেন। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার এই গোপাল মুখার্জি, ভানু বোসরা কখনও নেতা হতে চাননি। সে ভাবনা তাদের মনেও আসেনি। হয়তো অতোটা উচ্চাকাঙ্খা তাদের ছিল না। জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আর স্থানীয় ক্ষমতা নিয়েই তারা সন্তুষ্ট ছিলেন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা এই হুলিগানদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে সফলতা আর রাজনৈতিক বিরোধীদের ঝোড়ো আগমনের ইশারা পেয়ে কংগ্রেস নেতাদের চোখ পড়ল শুধু কলকাতার ভিতরে নয়, কলকাতার বাইরেও। ছোট ছোট শহরের হুলিগানদের জালে তোলার কাজ চলছিল। তাদের মূলত নেওয়া হচ্ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতার পিছনের দরজা রক্ষার জন্য। সেই সূত্রেই নজরে এলো বেলঘরিয়ার ইন্দুভূষণ মিত্র অথবা ইনু মিত্তিরের ওপরে। নেতাদের নজরে এলো, না ভানু বোস নজরে আনলো সেটা অবশ্য সঠিক জানা যায় না। তবে বেলঘরিয়ায় শুরু হল আর এক জমানা। বেলঘরিয়ার ত্রাস ইনু মিত্তিরের জমানা........
সেই ভয়াবহ আর দুর্দান্ত যুগের সাক্ষী হতে ওয়ান্স আপ অন আ টাইম ইন বেলঘরিয়ার এর সাথে থাকুন।























