অমানিশি
আলো নিভে গেলে যে অন্ধকার নামে, তারও আছে এক নিষ্ঠুর ইচ্ছাশক্তি
পাঁচ বছর আগে মধু ওঝার ঝাড়ফুঁক রক্ষা করেছিল গ্রামকে। কিন্তু এবার, সেই প্রেতের সামনে হার মানলো সেও। চোখের জল মুছতেও না পেরে তাকে বিদায় নিতে হলো। এরপর ডাকা হলো গিরিনাথ তান্ত্রিককে—প্রবীণ, অভিজ্ঞ, অদৃশ্য শক্তির ভাষা বোঝার ক্ষমতা যার আছে। তার সঙ্গী হিসেবে ত্রিজলের মাটিতে পা রাখলো এক চৌদ্দ বছরের কিশোর—লাল মিয়া ফকির।
এই কিশোরটিই প্রথম বুঝতে পারে, গ্রাম যা ভাবছে তা পুরোটা নয়। এই প্রেত কেবল হিংস্র নয়, তার আক্রোশ যেন জেগে থাকা এক অতীত। সে শিকার করে না কেবল, সে ছিন্নভিন্ন করে দেহ, যেন প্রতিটি আঘাতে প্রকাশ করে তার জমে থাকা অভিসম্পাত। এ এক অন্ধকার, যার মুখ নেই, চোখ নেই, তবু যার ভিতরটা অশান্ত আগুনে জ্বলছে।
কিন্তু তান্ত্রিক যখন নিজেই অসহায়, তখন লাল মিয়া কী করবে? কী আছে তার ঝোলায়—মন্ত্র না মস্তিষ্ক, ভয় না সাহস?
অমানিশি কেবল ভৌতিক রূপকথা নয়, এটি এক গভীর ভয়ের কাহিনি, যেখানে প্রেতের উপস্থিতি আসলে এক শূন্যতা নয়, বরং এক নির্ভুল প্রতিবাদ—সমাজের ভুল, অন্যায়, অবহেলার বিরুদ্ধে। এখানে অলৌকিকতা আড়াল নয়, বরং বাস্তবের প্রতিচ্ছবি।
এই কিশোর-নায়কের চোখ দিয়ে পাঠক দেখতে পায়, কিভাবে কখনও কখনও আলো হারিয়ে গেলে, অন্ধকার শুধু ভয় নয়—উত্তরও হয়ে ওঠে।
অমানিশি সেই গল্প, যেখানে ভয় আসে গায়ে না লেগে, মনকে ঘিরে ধরে। যা একবার পড়লে, রাতের নিস্তব্ধতায় সে গল্প ফিরে ফিরে আসে। মনে পড়ে যায়, সব প্রেতই কি সত্যিই অতৃপ্ত আত্মা? নাকি কিছু দুঃখ এত প্রবল হয় যে, সে নিজেই জন্ম দেয় এক নতুন অশরীরী শক্তিকে?
এই অন্ধকারের গভীরে যেতে সাহস লাগে। আর সেই সাহসটুকুই লাল মিয়ার মতো পাঠকেরও নিজস্ব পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে দাঁড়ায়।
top of page
SKU: 000367
₹299.00 Regular Price
₹254.00Sale Price
Related Products
bottom of page

















